tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়শহীদ পরিবারের অভিযোগ ভারতের স্বার্থে পিলখানায় হত্যাকাণ্ড

শহীদ পরিবারের অভিযোগ ভারতের স্বার্থে পিলখানায় হত্যাকাণ্ড

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন যে ভারতের স্বার্থ রক্ষা এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। তাদের দাবি, সেনাবাহিনীর ভেতরে ‘ভারতবিরোধী’ অবস্থান নিয়েছেন— এমন ধারণা ছিল যেসব কর্মকর্তাকে ঘিরে, তাদের উদ্দেশেই ভয় বা সতর্কবার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে ‘বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত বিডিআর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, “বার্তাটা ছিল—সেনাবাহিনীতে কেউ ভারতবিরোধী হলে তার পরিণতি হবে পিলখানার মতো।” তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ কর্নেল কুদরুতী ইলাহীর ছেলে সাকিব রহমান বলেন, কমিশন জানিয়েছে কিছু নাম আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না—এতে আশঙ্কা জন্মেছে যে হয়তো সেই নামগুলো আর প্রকাশ করা হবে না। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের ছেলে মুবিন হক অভিযোগ করেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ ও তাদের ঘনিষ্ঠ কিছু অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা শহীদ পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। তিনি শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

শহীদ নূরুল ইসলামের সন্তান আশরাফুল আলম হান্নান অভিযোগ করেন, বিগত সরকার একটি ভিত্তিহীন ইস্যুকে সামনে এনে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সূচনা করেছে। তার দাবি, ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং ভারতের সংশ্লিষ্টতা ছিল—এমন বিশ্বাস জনগণের মধ্যেও রয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। তাদের তদন্তে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক নেতার সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়।

রোববার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে তাঁরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

সম্মেলনে শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র ও পলাতক নেতা শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক মন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ একাধিক নেতার নাম উল্লেখ করেন তদন্ত কমিশনের প্রধান। এছাড়া সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক ডিজিএফআই প্রধান জেনারেল আকবরের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।