সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। তাঁদের পরিচয়ও জানা গেছে। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে।
রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ বাংলাদেশি
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে তিনজন
কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক।
হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক ও মা কমলা বেগম। ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া হাসান রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।
কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তাঁর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া ও মা শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তিনি হামলার শিকার হন।
মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য তিনি বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তিনজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে দুজন
রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।
সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মোখলেসার রহমান ও মা রোকেয়া বেগম।
দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মহিব উল্লাহ ও মা রোকেয়া বেগম। দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তাঁরা হামলার শিকার হন।
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে দুজন
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন।
সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবদুল হাই ও মা রহিমা বেগম। আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবুল ফজল ও মা তাজকেরা বেগম।
তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার সময় আহত হন তাঁরা।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে একজন
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশির নাম মো. আবদুল্লাহ। তাঁর বাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকার পূর্ব বক্সনগরে। তাঁর বাবা মো. মোখতার আহমেদ ও মা ফজিলাতুন নেসা। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে তিনজন
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক।
আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। তাঁর বাবা মো. মজিবুল হক ও মা শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।
এ হাসপাতালেই উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামের আরও দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কিংডম হাসপাতালে একজন
কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশির নাম মো. রফিক মিয়া। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত।
কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে তিনজন
কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে পাঁচজন
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।
এস্টার সনদ হাসপাতালে দুজন
এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত। জামালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে একজন
সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার নামের এক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফ্লাইট বাতিল, বিমানবন্দরে আটকে পড়েন প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি
হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করে।
বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে অবস্থান করা প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি ৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইনে যেতে সহায়তা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।



