tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি

চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশকে সবুজ সংকেত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়।

ঢাকা, মস্কো ও ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। পরে ওয়াশিংটনের ট্রেজারি বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করে সম্মতি দেয়।

বাংলাদেশ তিন মাসের জন্য ওয়েভার বা বিশেষ ছাড় চেয়েছিল। অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। এরপরই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বাংলাদেশি কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কিছু নির্দিষ্ট রুশ তেল কোম্পানির তালিকাও দিয়েছে, যাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সংকটের এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হবে।

অন্যদিকে রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে একটি রুশ তেল কোম্পানির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আরও আলোচনা চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এমন রুশ কোম্পানির কাছ থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনা করছে, যার অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। অন্যথায় তৃতীয় দেশে পরিশোধন করতে গেলে ব্যয় বেড়ে যাবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেনের মতে, বর্তমান পরিশোধন সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রাশিয়া থেকে মূলত লাইট ক্রুড অয়েল আমদানি করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে তিনি রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের সীমিত ছাড় বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারেনি, কারণ তখন কোনো ট্যাঙ্কার বাংলাদেশের দিকে আসেনি।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে দেশের ভর্তুকি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত তেল ও এলএনজি আমদানিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।