ঢাকা শহরের যানজট সমস্যাটি দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যা। সড়ক ব্যবস্থার অস্থিরতা, ট্রাফিক সিগন্যালের অনিয়ম এবং ম্যানুয়াল ত্রুটির কারণে যানজট ক্রমশ বাড়ছে। এই সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি, বরং দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজধানীর রাস্তায় বিভিন্ন পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট থেকে সাতটি মোড়ে সিগন্যাল সিস্টেমে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যদিও সিগন্যাল বাতিগুলো সচল, তবুও অধিকাংশ সড়ক ব্যবহারকারীর মতে, এগুলো এখনও কার্যকর হয়নি। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এখনও ট্রাফিক পুলিশের হাতে, আর সিগন্যালগুলো কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা শেখ মইনউদ্দিন জানান, শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি ও যন্ত্রপাতির অভাব ছিল, যা ধাপে ধাপে ঠিক করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়ের সঙ্গে সিগন্যালগুলো কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ৬৯টি স্থানে যানবাহনের গতিপথ পরিবর্তনের (ডাইভারশন) উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এ নিয়ে সড়ক ব্যবহারকারীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকের যাতায়াতের সময় বেড়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কমেছে। সাধারণের মতে, সুবিধাভোগীর সংখ্যা খুবই কম। ঢাকার চাপ এবং বিশৃঙ্খলার কারণে অনেক জায়গায় ডাইভারশন নতুন যানজট সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, ডাইভারশন পদ্ধতি বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে, তবে এটি তখনই কার্যকর যেখানে যানবাহনের সংখ্যা কম। ঢাকার ব্যস্ত এলাকায় এই পদ্ধতি কাজ করবে না। যদি ট্রাফিক পুলিশ এটা বুঝতো, তবে তাদের বদনাম এড়ানো যেত। এখন পরীক্ষামূলক উদ্যোগের ফলে জনভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না।



