tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত: শিকল-হাতকড়ায় ৬০ ঘণ্টা কাটিয়ে দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত: শিকল-হাতকড়ায় ৬০ ঘণ্টা কাটিয়ে দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় আটকে পড়া ৩০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জানান, ফেরতের পুরো সময়জুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়েছে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিদের একজন হাসান তানজিল বলেন, তাকে ও অন্যান্যদের হাতকড়া, কোমরে শিকল ও পায়ে লোহার বেড়ি পরিয়ে উড়োজাহাজে তোলা হয়। এই অবস্থায় টানা প্রায় ৬০ ঘণ্টা কাটানোর পর গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছান।

তানজিল জানান, “মঙ্গলবার সকালে আমাদের হাতকড়া ও শিকল পরানো হয়। সারাদিন সেভাবেই রাখা হয় এবং রাত ৯টার দিকে উড়োজাহাজে তোলা হয়। ঢাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা একই অবস্থায় ছিলাম। আগের দিনও একইভাবে আমাদের আটকে রাখা হয়েছিল, যদিও সেদিন ফ্লাইট মিস হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, “হাতে হাতকড়া থাকা অবস্থায় খাবার খেতে হয়েছে, যা ছিল শুকনো খাবার। দীর্ঘসময় হাতকড়া পরে থাকায় হাতে ঘা হয়ে গেছে।”

জানা গেছে, ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ভাড়া করে, যা বিশেষ ফ্লাইট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফ্লাইটে ৩০ বাংলাদেশি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও চিকিৎসকসহ মোট ৫০ জন ছিলেন।

এর আগে, গত ২ আগস্ট আরেক দফায় ৩৯ বাংলাদেশিকে একটি সামরিক উড়োজাহাজে করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই ফেরতপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “হাতকড়া, পায়ে বেড়ি এবং কোমরে শিকল পরিয়ে আমাদের রাখা হয়েছিল। এমনকি টয়লেট ব্যবহারের সময়ও কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়।”

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “এই অভিজ্ঞতা ছিল চরম অমানবিক। কিন্তু এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কেউ প্রশ্ন তোলে না। মানবাধিকারের কথা কেবল মুখেই শোনা যায়।”ফেরত আসা অধিকাংশ ব্যক্তি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন।

হাসান তানজিল জানান, তিনি ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর কানাডায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে বৈধ ভিসার প্রতিশ্রুতি পান। কিন্তু যাত্রা শুরু হওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মাঝে রয়েছে বড় ফারাক।