যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার নতুন তথ্য প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি পার্লামেন্টে জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা গেছে, ২০০০ সালের দিকে ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এমনকি ২০০৮ সালে এপস্টেইনের প্রথম দণ্ডকে “ভুল” আখ্যা দিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করার পরামর্শও দেন তিনি। এসব তথ্য তার সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে পূর্বের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া ম্যান্ডেলসন আগেই দাবি করেছিলেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না। তবে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সান প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, তিনি এপস্টেইনকে লিখেছিলেন—“তুমি দ্রুত মুক্তির জন্য লড়াই করো” এবং আরও একটি বার্তায় উল্লেখ করেছিলেন, “আমি তোমার প্রতি পৃথিবীর মতো ভাবি।”
এই সিদ্ধান্ত স্টারমারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ মাত্র একদিন আগেই তিনি ম্যান্ডেলসনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যেই আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লন্ডন সফরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ডেপুটি হেড অব মিশন জেমস রস্কো। তিনি একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক এবং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সাবেক যোগাযোগ উপদেষ্টা।
ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিতর্কিত চরিত্র ম্যান্ডেলসন টনি ব্লেয়ারের সময় দুই দফা মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ইউরোপীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। বাণিজ্য বিষয়ে দক্ষতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে ভূমিকা রাখলেও এপস্টেইন কেলেঙ্কারি তার কূটনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করেছে।



