ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি বড় ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনা ব্যর্থ করার দাবি করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, তেহরানে সহিংস হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানোর আগেই প্রায় ৬০ হাজার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং মোসাদ-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি সশস্ত্র চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তেহরানভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ওই চক্রটি প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছিল। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকা আন্দোলন ধীরে ধীরে বিদেশি মদদপুষ্ট সহিংসতায় রূপ নেয়।
ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমান্ড (ফারাজা) এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশে পরিচালিত অভিযানে দাঙ্গাকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র রাজধানী তেহরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানানো হয়। অভিযানে অন্তত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি ‘বিপজ্জনক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ শনাক্ত করে তাদের সদস্যদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, গোষ্ঠীটির লক্ষ্য ছিল হত্যাকাণ্ড চালানো এবং বিক্ষোভকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ দেওয়া।
এদিকে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি মোসাদের মাধ্যমে উন্নত নগর যুদ্ধ কৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, যাতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রকাশিত ছবিতে একে-৪৭ রাইফেল, শটগানসহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র এবং স্যাটেলাইট ফোনসহ আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম দেখা গেছে।
ইরানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, এসব দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী তৎপরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি মদদ রয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।



