সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরুর আগে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ও রঙিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। মাত্র ২০ মিনিটের এই আয়োজনে ফুটে ওঠে সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নৃত্যশিল্পীরা মাঠের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত বিশ্বকাপ ট্রফির বিশাল প্রতিরূপকে ঘিরে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন। এ সময় স্টেডিয়ামজুড়ে ঘোষণা ভেসে আসে—‘বিশ্ববাসীকে মেক্সিকোতে স্বাগতম। আমরা বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও গৌরবের এক জাতি। ফুটবল সেই একতা ও স্পন্দনের নাম, যা সব জাতিকে এক সুতোয় গাঁথে।’
নৃত্যপর্ব শেষে শুরু হয় মূল আকর্ষণ—মিউজিক্যাল ফিয়েস্তা। মেক্সিকোর জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গ্যালারি মুহূর্তেই রূপ নেয় উৎসবমুখর সমুদ্রে। আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস এবং মানা ব্যান্ড একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। তিনি মঞ্চে উঠতেই পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। পরে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়। দুই বিশ্ব তারকার যুগল পরিবেশনা পুরো স্টেডিয়ামকে এক উৎসবমুখর আবহে রূপ দেয়।
সবশেষে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’—যার অর্থ ‘চলো এগিয়ে যাই’—পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উদ্বোধনী আয়োজন। সুর, নৃত্য আর আলোঝলমলে এই আয়োজন শেষে এবার চোখ মাঠের ফুটবলে।
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের স্মৃতি যেন নতুন করে ফিরে আসছে এই আসরে। এবারও উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শুধু বদলেছে স্বাগতিক দেশ, আর শুরু হতে যাচ্ছে ৩৯ দিনের বিশ্ব ফুটবল উন্মাদনা।



