ইরানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিপুল সংখ্যক বন্দির সাজা মওকুফ ও হ্রাস করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩৯ জন বন্দির শাস্তি কমানো ও মওকুফের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে এত বড় সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনা হলো। তিনি এটিকে ইরানের বিচারব্যবস্থার একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আসগর জাহাঙ্গীর জানান, ক্ষমাপ্রাপ্ত বন্দিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগকারী বা বাদী ছিল না। এছাড়া অতীতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও পাওয়া যায়নি। কারাগারে অবস্থানকালে তাদের ভালো আচরণ, অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ এবং সংশোধনের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাদের এই বিশেষ ক্ষমার জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।
ইরানের সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ নেতা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শাস্তি সম্পূর্ণ মওকুফ বা হ্রাস করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখেন।
তবে দেশটির আইন অনুযায়ী সব ধরনের অপরাধ এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়ে না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড, সংগঠিত বা সশস্ত্র মাদক চোরাচালান, সশস্ত্র ডাকাতি, অস্ত্র পাচার, অপহরণ, ঘুষ এবং আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরা এ ধরনের ক্ষমার সুবিধা পান না।



