tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমাদুরো কেন ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ির মুখে?

মাদুরো কেন ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ির মুখে?

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মাদুরোকে লক্ষ্য করে মার্কিন প্রশাসন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ জোরদার করেছে। এ ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। প্রশ্ন উঠছে—মাদুরোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এত কঠোর কেন?

যেভাবে ক্ষমতায় আসেন নিকোলাস মাদুরো

বামপন্থি নেতা হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নিকোলাস মাদুরোর রাজনৈতিক উত্থান। ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলা (পিএসইউভি)-এর নেতৃত্বে রাজনীতিতে সক্রিয় মাদুরো একসময় বাসচালক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ছিলেন। হুগো চাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন।

চাভেজ ও মাদুরোর প্রায় ২৬ বছরের শাসনামলে তাদের দল জাতীয় পরিষদ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও বিরোধীরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে বিরোধী প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়েছিলেন। বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ থাকায় গনসালেসই জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান।

কেন ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলান অভিবাসী সংকটের জন্য দায়ী করে আসছে। ২০১৩ সাল থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের কারণে প্রায় ৮০ লাখ ভেনেজুয়েলান দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের একটি বড় অংশ এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধী ও মানসিক রোগীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন—যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ও কোকেন প্রবাহের জন্য ভেনেজুয়েলাকে আংশিকভাবে দায়ী করে। তারা ভেনেজুয়েলার অপরাধী গোষ্ঠী ত্রেন দে আরাগুয়া এবং কার্টেল দে লোস সোলেসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ট্রাম্পের অভিযোগ, কার্টেল দে লোস সোলেসের সঙ্গে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে—যা মাদুরো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘কার্টেল দে লোস সোলেস’ কোনো সুসংগঠিত একক কাঠামো নয়; বরং ভেনেজুয়েলার কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক পাচারের অভিযোগ বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সামরিক তৎপরতা

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়। মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ানো হয় এবং ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে লক্ষ্য করে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তেল রপ্তানি ভেনেজুয়েলার বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় এই পদক্ষেপ মাদুরো সরকারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে।

একই সঙ্গে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল মাদক পাচার ঠেকানো। তবে এসব অভিযানে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক এক প্রধান কৌঁসুলি বিবিসিকে বলেন, এই ধরনের সামরিক অভিযান শান্তিকালে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার শামিল হতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

মাদুরোর প্রতিক্রিয়া

নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।