tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, দায় অস্বীকার হুতিদের

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, দায় অস্বীকার হুতিদের

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। হামলার ঘটনায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে জোটটি।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকেই মসজিদে নববী (মসজিদ আন-নববী) এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। হামলার ফলে কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল হয়ে পড়ে। তবে এতে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা প্রভাবিত হয়নি বলে দাবি করেছে জোটটি।

হামলার পর পরিচালিত তদন্তের বরাত দিয়ে সৌদি জোট জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জোটের ভাষ্য, হামলার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন—দুই ক্ষেত্রেই হুতিরা জড়িত ছিল।

তবে সৌদি জোটের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। হুতি পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে সংগঠনটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র দাবি করেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ ‘মিথ্যা’।

হুতিদের ওই সূত্রের অভিযোগ, এর আগে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার যে দাবি সৌদি আরব করেছিল, সেটির পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি আড়াল করতেই এবার মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার নতুন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলছে, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনা মুসলমানদের দুই পবিত্র স্থান—মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুতিদের চালানো ধারাবাহিক হামলা প্রচেষ্টার অংশ। জোটের দাবি, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি ও তাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পবিত্র স্থান এবং হাজি-ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এদিকে ইয়েমেনের তাইজ গভর্নরেটে হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় হুতি যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশে হুতিদের উৎক্ষেপণ করা চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি খামিস মুশাইত ও দক্ষিণাঞ্চলের জাজান শহরের আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবিও করেছে জোটটি।

তবে এসব সামরিক দাবির বিষয়ে প্রতিবেদনে হুতিদের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: আল জাজিরা