ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘জামায়াত কখনোই ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনে জয়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে দলটি পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। তাদের জনসমর্থন সীমিত।’
তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, ‘অনেকেই তাদের এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তবেই তারা ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেতে পারে। অন্যথায় তা সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান স্মরণ করিয়ে দিয়ে শ্রিংলা বলেন, ‘ভারত বরাবরই বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চায়, যেখানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকবে। তবে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি আমি দেখছি না। নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে এবং রাজনৈতিক কারণে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এ প্রবণতা ভারতের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশিরা ভারতে এসে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ফল। এর প্রভাব ভবিষ্যতে খেলাধুলাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও পড়তে পারে, যা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।’
তার বক্তব্যে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
প্রথম নিউজ/মহা



