tanaka

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়, কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের দৃষ্টি কোন কোন দেশে

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের দৃষ্টি কোন কোন দেশে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রনীতিতে আগ্রাসী ও উচ্চাভিলাষী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই তিনি বিশ্বের তুলনামূলকভাবে দুর্বল কিন্তু সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর প্রতি কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ, ইরান, ফিলিস্তিনের গাজা এবং ডেনমার্কের অধিভুক্ত গ্রিনল্যান্ড ট্রাম্পের নজরে রয়েছে।

এরই মধ্যে তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বনেতাদের মতে, একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে হাজির করা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্লেষকদের দাবি, মাদুরোকে সরানো নয়—এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ। ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।

এই অভিযানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প ১৮২৩ সালের মনরো নীতিকে নতুনভাবে সামনে আনেন এবং একে ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে অভিহিত করেন।

অনলাইন বিবিসির প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা পাওয়া কয়েকটি দেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে—


গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—পিটুফিক স্পেস বেস। তবে একটি ঘাঁটিতে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প; তিনি পুরো দ্বীপটির ওপরই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।”
তিনি দাবি করেন, অঞ্চলটি রুশ ও চীনা জাহাজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপটি বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এসব খনিজ উৎপাদনে চীন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক এগিয়ে। পাশাপাশি, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করে বলেন, “আর কোনো চাপ নয়, আর কোনো দখলদারির চিন্তা নয়। আমরা সংলাপে বিশ্বাস করি, তবে তা হতে হবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে।”


কলম্বিয়া

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে উদ্দেশ করে সতর্কবার্তা দেন—‘ওয়াচ হিজ অ্যাস’। ভেনেজুয়েলার পশ্চিমের প্রতিবেশী কলম্বিয়ায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য তেলভান্ডার। দেশটি স্বর্ণ, রৌপ্য, পান্না, প্লাটিনাম ও কয়লার বড় উৎপাদক এবং অঞ্চলটির মাদক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার কিছু নৌযানে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, সেগুলো মাদক বহন করছিল, যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এরপর থেকেই বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অক্টোবরে পেত্রোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “কলম্বিয়া একজন অসুস্থ মানুষের হাতে পরিচালিত হচ্ছে—যে কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে ভালোবাসে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে সেখানে অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


ইরান

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আরও বিক্ষোভকারী নিহত হলে ইরান খুব বড় আঘাত পাবে।”
যদিও ইরান তাত্ত্বিকভাবে ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর আওতার বাইরে, তবু ট্রাম্প আগেও ইরানি শাসনব্যবস্থাকে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইসরাইল-ইরান সংঘাত ১২ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়। সম্প্রতি মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকেও ইরান ছিল আলোচনার শীর্ষে। মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, ২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে এসেছে।


মেক্সিকো

২০১৬ সালে ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ স্লোগান দিয়েই ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থান। দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি নির্বাহী আদেশে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গাল্ফ অব আমেরিকা’ রাখেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যথেষ্ট করছে না। তিনি বলেন, “মেক্সিকোর মধ্য দিয়েই মাদক ঢুকছে, কার্টেলগুলো সেখানে খুব শক্তিশালী।”

এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মেক্সিকোর ভূখণ্ডে কোনো ধরনের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ তিনি মেনে নেবেন না।


কিউবা

ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরের কিউবা ষাটের দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কিউবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দেশটি দীর্ঘদিন তেল সহায়তা পেয়ে এসেছে।

ট্রাম্পের মতে, কিউবা এখন নিজেই ভেঙে পড়ার পথে। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় সেখানে আমাদের হস্তক্ষেপের দরকার নেই।” ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর কিউবার নির্ভরতা বেশি হওয়ায় মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে হাভানাও বড় সংকটে পড়তে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি কিউবান অভিবাসী পরিবারের সন্তান, দীর্ঘদিন ধরেই কিউবায় শাসন পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তার মন্তব্য, “আমি যদি হাভানায় থাকতাম, তাহলে এখন অন্তত কিছুটা হলেও চিন্তিত থাকতাম।”