লাদাখে রাজ্যের মর্যাদার দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। বুধবার লেহ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছাত্রও ছিলেন। এই ঘটনার পরপরই কার্গিলেও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।
লেহের ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিহতদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ কর্মসূচির ডাক দেয়। ওইদিন কার্গিলের সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল এবং রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল ছিল প্রায় শূন্য।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কার্গিলে জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একইসঙ্গে লেহ শহরে জারি করা হয়েছে কারফিউ।
সহিংসতার ঘটনায় ব্যাপক গ্রেফতার
‘নিউজ অনএয়ার’ সূত্রে জানা গেছে, সহিংস ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে কংগ্রেসের একজন কাউন্সিলরসহ ৫০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে লাদাখ জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, আইটিবিপি এবং সিআরপিএফ বাহিনী।
বর্তমানে কেডিএ এবং লেহ অ্যাপেক্স বডি (এলএবি) একযোগে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি চারটি, যার মধ্যে রয়েছে—লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা প্রদান এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সংহতি প্রকাশ
কেডিএ-র সহ-সভাপতি আসগর আলী কারবালাই সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে ‘ডাইনি শিকার’-এর মতো অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং আলোচনার দরজা আবার খুলতে হবে।”
ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ড. ফারুক আবদুল্লাহ এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “লাদাখের জনগণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি জানিয়ে এসেছে। কিন্তু বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।”
এদিকে লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পাহাড় উন্নয়ন পরিষদ-কার্গিলের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাফর আখুন লেহর ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলপ্রয়োগের নিন্দা জানান এবং জনগণের প্রতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে মত প্রকাশের আহ্বান জানান।



