জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে বড় পরিসরের উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কায়জার সোহেল আহমেদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। অপরদিকে, বোয়িংয়ের প্রতিনিধিও নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে সই করবেন বলে নিশ্চিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকতে পারেন।
এই চুক্তিকে জাতীয় বিমান সংস্থাটির আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মোকাবিলা, বহরের আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘপাল্লার রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দীর্ঘ রুটে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো ব্যবহৃত হবে আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে।
উল্লেখ্য, এই বড় ক্রয়াদেশকে ঘিরে গত তিন বছর ধরে বোয়িং ও ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। অবশেষে এই চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রতিযোগিতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফরসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতায় এয়ারবাস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বোয়িংই অর্ডারটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপীয় পক্ষ থেকে বিমানের বহরে বৈচিত্র্য আনতে এয়ারবাস অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।



