tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে: জাহেদ উর রহমান

বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে: জাহেদ উর রহমান

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে নতুন বেতন কাঠামোর কারণে সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি চাকরিজীবীর বেতন নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত নতুন স্কেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলে অনেকের বেতন প্রত্যাশার তুলনায় খুব বেশি বাড়বে না।

তিনি বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধি পেলে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে। তবে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়লে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়।’

সরকারি ব্যয় বেড়ে গেলে তা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে—এমন আলোচনার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে সরকারের বাজেট রয়েছে। তবে বেতন বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি একেবারেই বাড়বে না, সেটিও বলা যায় না। কিছুটা মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ

সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিমান কেনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল সক্ষমতা সম্ভবত বিমানবাহিনীর। বর্তমানে বিমানবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমানের সংখ্যা খুবই সীমিত এবং বিদ্যমান কিছু বিমানও পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে মিগ-২৯ রয়েছে, তবে সেগুলোর কার্যক্রমও সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে বিমানবাহিনীর মূল শক্তি হিসেবে থাকা জে-৭ ও এফ-৭ যুদ্ধবিমানগুলো মিগ-২১-এর আপগ্রেডেড সংস্করণ, যেগুলো অনেক আগেই পুরোনো হয়ে গেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের প্রয়োজন আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার বা বহুমুখী যুদ্ধবিমান। একই যুদ্ধবিমান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, নতুন যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। হিসাব-নিকাশ করে চীনের বিকল্পটি বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক মনে হয়েছে।

তার ভাষ্য, একই ধরনের সক্ষমতা ও সুবিধা তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া গেলে সেটিই বাংলাদেশের জন্য যৌক্তিক বিকল্প। চীনের যুদ্ধবিমান কিনতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের সমমানের বিকল্পের তুলনায় অর্ধেকেরও কম, এমনকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় হতে পারে বলেও তিনি জানান।