tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিবিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, পেছনে যেসব কারণ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, পেছনে যেসব কারণ

চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও শুক্রবার হঠাৎ বড় ধরনের পতন দেখা যায়। একদিনেই স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামনে স্বর্ণের দাম আরও কমবে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এই আকস্মিক পতনের অন্যতম প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বজায় থাকার ইঙ্গিত যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা কমে এবং তারা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ থেকে সরে আসতে শুরু করেন।

ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত স্বর্ণের দামে চাপ পড়ে। কারণ স্বর্ণের মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়। ডলার বাড়লে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, এতে চাহিদা কমে যায়। শুক্রবার ঠিক এই পরিস্থিতিই দেখা গেছে। বড় অঙ্কের বিক্রি শুরু হলে ১৮৩০ জিএমটি সময়ের দিকে স্বর্ণের দাম নেমে আসে প্রায় ৪,৭২৪ ডলারে। একই সময়ে রুপার দাম ৩১ শতাংশের বেশি কমে গিয়ে প্রতি আউন্স ৭৯.৩০ ডলারে দাঁড়ায়।

সপ্তাহের শুরুতে চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্পট গোল্ড প্রায় ৫,৬০০ ডলারে পৌঁছায়। নিউইয়র্কে এক সময় স্পট গোল্ডের দাম ৫,৪১৮ ডলারের ওপরে ওঠে। তবে পরে ফিউচারস বাজারে দাম ৫,০০০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যা দ্রুত উত্থানের পর বড় সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়।

সিটি গ্রুপের মতে, স্বর্ণে বিনিয়োগের চাহিদা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েন, তাইওয়ানকে ঘিরে ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বাজারে বিরাজ করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এসব ঝুঁকির বড় একটি অংশ কমে যেতে পারে বা স্থায়ী নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

২০২৬ সালের শুরুতে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বেড়ে যায়। অনেকেই পুরোনো গয়না বিক্রি করতে দোকানে ভিড় করেন, আবার কেউ কেউ কয়েন ও বার কেনেন কিংবা ইটিএফের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের ডিলাররা জানান, তখন ক্রেতার চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও অনেকেই উল্লেখ করেন।

সাধারণত অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের দাম বাড়তে দেখা যায়। কোভিড মহামারি কিংবা বিভিন্ন যুদ্ধের সময়ও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুল্কনীতি, ভূরাজনীতি এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন স্বর্ণবাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা এখন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এক বছর আগে স্পট গোল্ডের দাম ছিল ২,৭৯৫ ডলারের নিচে—সেই তুলনায় বর্তমান দাম এখনো অনেক বেশি। স্বল্প সময়ে স্বর্ণের দামে বড় ওঠানামা হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। যারা বিক্রি করতে চান, তাদের একাধিক জায়গার দাম তুলনা করা উচিত। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।সূত্র: ইকনমিক টাইমস

prothomnews.com/moha