ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, সঙ্গে থাকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারও। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই পুরস্কারের পরিমাণ অতীতের সব আসরকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর।
প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে ৩৯ দিনে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। দল ও ম্যাচসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রাইজমানিও।
প্রথমে ফিফা মোট পুরস্কার তহবিল ৭২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছিল, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে পরে অংশগ্রহণ ফি ও প্রস্তুতি সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মোট প্রাইজমানি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। এটি কাতার বিশ্বকাপের ৪৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানির তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হবে। আর বাকি ২১৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে প্রস্তুতি, ভ্রমণ, আবাসন, লজিস্টিকস, প্রশাসনিক খরচ এবং প্রতিনিধি দল পরিচালনার জন্য। এই অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলোর কাছে যাবে। পরে ফেডারেশনগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী খেলোয়াড়দের মধ্যে এর একটি অংশ বণ্টন করবে।
অংশগ্রহণ করলেই নিশ্চিত ১২.৫ মিলিয়ন ডলার
বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা প্রতিটি দল ফিফার কাছ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার কোয়ালিফিকেশন ফি এবং ২.৫ মিলিয়ন ডলার প্রস্তুতি ও লজিস্টিকস সহায়তা পাবে। অর্থাৎ, মাঠে একটি ম্যাচ খেলার আগেই প্রতিটি দলের নিশ্চিত আয় ১২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫৪ কোটি ২২ লাখ টাকা)।
পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রাইজমানি
- চ্যাম্পিয়ন: ৫০ মিলিয়ন ডলার
- রানার্সআপ: ৩৩ মিলিয়ন ডলার
- তৃতীয় স্থান: ২৯ মিলিয়ন ডলার
- চতুর্থ স্থান: ২৭ মিলিয়ন ডলার
অর্থাৎ, চ্যাম্পিয়ন দল অংশগ্রহণের ১২.৫ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার পাবে। সব মিলিয়ে তাদের মোট আয় হবে ৬২.৫ মিলিয়ন ডলার।
কোয়ার্টার ফাইনাল
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার। অংশগ্রহণ বাবদ পাওয়া ১২.৫ মিলিয়ন ডলার যোগ করলে মোট প্রাপ্তি হবে ৩১.৫ মিলিয়ন ডলার।
এবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে:
- মরক্কো
- বেলজিয়াম
- নরওয়ে
- সুইজারল্যান্ড
শেষ ষোলো
শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পারফরম্যান্সভিত্তিক ১৫ মিলিয়ন ডলার পাবে। অংশগ্রহণ ফিসহ তাদের মোট আয় হবে ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার।
এই পর্যায়ে বিদায় নেওয়া দলগুলো:
- ব্রাজিল
- মেক্সিকো
- পর্তুগাল
- যুক্তরাষ্ট্র
- মিশর
- কলম্বিয়া
- কানাডা
- প্যারাগুয়ে
রাউন্ড অব ৩২
রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার। অংশগ্রহণের অর্থসহ মোট প্রাপ্তি হবে ২৩.৫ মিলিয়ন ডলার।
এই পর্যায়ে বিদায় নেওয়া দলগুলো:
- জার্মানি
- নেদারল্যান্ডস
- ক্রোয়েশিয়া
- জাপান
- সুইডেন
- দক্ষিণ আফ্রিকা
- সেনেগাল
- আলজেরিয়া
- আইভরিকোস্ট
- ইকুয়েডর
- ডিআর কঙ্গো
- বসনিয়া-হার্জেগোভিনা
- অস্ট্রিয়া
- কেপ ভার্দে
- অস্ট্রেলিয়া
- ঘানা
গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, তবুও বড় অঙ্কের পুরস্কার
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দলও খালি হাতে ফিরছে না। তারা পারফরম্যান্সভিত্তিক ৯ মিলিয়ন ডলার পাবে। অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি বাবদ ১২.৫ মিলিয়ন ডলার যোগ করলে মোট প্রাপ্তি হবে ২১.৫ মিলিয়ন ডলার।
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল হলো:
- দক্ষিণ কোরিয়া
- চেক প্রজাতন্ত্র
- কাতার
- স্কটল্যান্ড
- হাইতি
- তুরস্ক
- কুরাসাও
- তিউনিসিয়া
- ইরান
- নিউজিল্যান্ড
- উরুগুয়ে
- সৌদি আরব
- ইরাক
- জর্ডান
- উজবেকিস্তান
- পানামা
কেন এত বেড়েছে প্রাইজমানি?
ফিফার মতে, প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের ফলে ম্যাচসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক খাত থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অতিরিক্ত আয়ের বড় একটি অংশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বণ্টন করতেই ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।



