tanaka

ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমতে পারে ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংস্কারের তাগিদ

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের প্রভাবে চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা ও দারিদ্র্য কমাতে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভারতে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ আদায় নিষিদ্ধ

ভারতে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ আদায় নিষিদ্ধ

ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (দমদম বিমানবন্দর) ভেতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদে (স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত) সাময়িকভাবে নামাজ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকা থেকে মসজিদটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজ চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই মসজিদটি বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) দাবি, মসজিদটির বর্তমান অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং বড় আকারের উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

শনিবার (১১ জুলাই) থেকে সাধারণ মানুষের জন্য মসজিদে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বা গেট পাস দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে আপাতত নামাজ আদায়ও বন্ধ রয়েছে।

কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির একাধিক বৈঠকের পর মসজিদটি বিমানবন্দর চত্বরের বাইরে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যও সামনে এসেছে।

এক পক্ষের দাবি, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ সংস্কার এবং তিন দিনের জরুরি কাজের কারণে সাময়িকভাবে প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সিআইএসএফ মোতায়েন করে মসজিদের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে স্থানান্তরের সময় মসজিদের ধর্মীয় মর্যাদা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। নতুন স্থানে ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গৌরীপুর জামে মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। তাই স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে আবেগের বিষয় থাকলেও অনেকেই উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন মসজিদ নির্মাণ, স্থানান্তরের সময়সূচি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বর্তমানে মসজিদে প্রবেশ বন্ধ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।