tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়বিপিসিকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিল সরকার

বিপিসিকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিল সরকার

জ্বালানি তেল আমদানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির ওপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ সামাল দিতে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বাসসকে বলেন, ‘সরকার আমাদের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। গতকাল আমরা ওই অর্থ পেয়েছি।’

তিনি জানান, জ্বালানি তেল আমদানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে বিপিসির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে সংস্থাটির ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান এর আগে বাসসকে জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংস্থাটিকে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই সময়ে শুধু জ্বালানি তেলের দামই বাড়েনি, পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহনে জাহাজভাড়া ৩ থেকে ৪ ডলারের মধ্যে ছিল, তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে পৌঁছেছে। এতে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির মাসিক অতিরিক্ত ব্যয়ও বেড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়।

বিপিসির আর্থিক চাপের আরেকটি কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে সেই অনুপাতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিপিসির হিসাবে, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানির মূল্য পরিশোধে সংস্থাটির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

সরকারের দেওয়া নতুন ঋণ বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর ফলে আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বিপিসির সক্ষমতা বাড়বে।