tanaka

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা, সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম

আগামী ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা...
প্রচ্ছদরাজনীতিবিএনপির মহাসচিব পদে কার কতদিন, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব পদে কার কতদিন, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মির্জা ফখরুল

প্রতিষ্ঠার পর প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে এসেছেন একাধিক নেতা। দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক পদে কেউ ছিলেন অল্প সময়, আবার কেউ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সর্বশেষ দীর্ঘ এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি সময়ের রেকর্ড গড়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের দায়িত্বের ইতি ঘটে ১৩ আগস্ট ২০২৬। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর তিনি মহাসচিব ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, কে এম ওবায়দুর রহমান, আবদুস সালাম তালুকদার, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব বদরুদ্দোজা চৌধুরী

১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের প্রথম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তার পর মহাসচিবের দায়িত্বে আসেন আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর কে এম ওবায়দুর রহমান এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুস সালাম তালুকদারের দীর্ঘ অধ্যায়

কে এম ওবায়দুর রহমানের পর বিএনপির মহাসচিব হন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার। ১৯৮৮ সালের দিকে দায়িত্ব নেওয়া এই নেতা প্রায় আট বছর দলটির দ্বিতীয় শীর্ষ পদে ছিলেন।

তার সময়ে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও এরশাদবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর দলের মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসে।

১১ বছর দায়িত্বে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া

১৯৯৬ সালের জুনে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পান আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। এর আগে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রায় ১১ বছর তিনি এই পদে ছিলেন।

দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন মহাসচিব থাকার কারণে বিএনপির ইতিহাসে তিনিও এই পদে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারীদের একজন। ২০০৭ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সময় দলের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

দুর্দিনে দায়িত্ব নেন খোন্দকার দেলোয়ার

মান্নান ভূঁইয়ার পর দলের কঠিন সময়ে মহাসচিবের দায়িত্ব পান খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তিনি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে পূর্ণাঙ্গভাবে দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের মার্চে তার মৃত্যুর পর মহাসচিবের দায়িত্বে পরিবর্তন আসে।

ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব ফখরুল

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালের মার্চে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত থাকার পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন।

এরপর টানা এক দশকের বেশি সময় বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফখরুল। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি মহাসচিবের পদ ছাড়েন।

কার কত বছরের দায়িত্ব?

বিএনপির মহাসচিবদের দায়িত্বের সময়কাল সংক্ষেপে—

  • এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী — প্রায় ৮ বছর
  • আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান — প্রায় ১ বছর
  • কে এম ওবায়দুর রহমান — প্রায় ১ বছর
  • আবদুস সালাম তালুকদার — প্রায় ৮ বছর
  • আবদুল মান্নান ভূঁইয়া — প্রায় ১১ বছর
  • খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন — প্রায় ৪ বছর
  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — প্রায় ১৫ বছর; প্রথমে ভারপ্রাপ্ত, পরে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব

বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে শুরুর দিকের কয়েকজন মহাসচিবের দায়িত্ব শুরুর ও শেষের বছর নিয়ে সামান্য পার্থক্য পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বের বিচারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় এই পদে ছিলেন। তার পরের অবস্থানে রয়েছেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া।

প্রায় পাঁচ দশকের এই সময়ে বিএনপির মহাসচিব পদে নেতৃত্বের পরিবর্তন শুধু সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন ও পরিবর্তনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।