দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নির্বাচনী প্রচারণায় বরিশালে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তাঁর আগমনকে ঘিরে ভোর থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন। অনেকেই ফজরের নামাজ আদায় করে ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে অবস্থান নেন।
বুধবার দুপুর ১২টায় বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এই সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।
বাবুগঞ্জ থানার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন থেকে আসা নাজমা ও কান্তা স্থানীয় মহিলা দলের নেতাকর্মী। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে তারা মঙ্গলবার রাতেই বরিশালে এসে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান নেন। নাজমা জানান, তিনি ফজরের নামাজ শেষে রোজা রেখে মাঠে এসেছেন। তাদের কোনো ব্যক্তিগত দাবি নেই—শুধু চান দেশটি সুন্দর ও সুশাসিত হোক। কান্তাও বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য শান্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চান তারা।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে ভোরে লঞ্চযোগে বরিশালে আসা যুবদল কর্মী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নেতা যখন শহরে আসছেন, তখন আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না।’
সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা গেছে, প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। মাঠের পূর্ব পাশে বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নারী নেতাকর্মীদের বসার জন্য বাঁশ দিয়ে আলাদা স্থান ঘেরা হয়েছে এবং সেখানে কলাপাতা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো শহর ও সমাবেশ এলাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সাজানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৮ সালে এই বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই মাঠে দলের পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল পৌঁছাবেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর আনুমানিক ১টার দিকে তিনি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বরিশালের যে উন্নয়ন হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা ও পূর্ণতা দিতে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৬ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান।



