tanaka

চ্যানেল আইয়ের পর্দায় আজ থেকে ‘স্পেলিং স্টার ২০২৬’

দেশজুড়ে কয়েক ধাপের বাছাইপর্ব শেষ করে এবার টেলিভিশনের পর্দায় শুরু হচ্ছে ‘শাহীন শিক্ষা পরিবার-চ্যানেল আই স্পেলিং স্টার ২০২৬’-এর মূল প্রতিযোগিতা। আজ শুক্রবার থেকে চ্যানেল...
প্রচ্ছদখেলাফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় হামজা

ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় হামজা

মাঠে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়াই যার কাজ, এবার সেই হামজা চৌধুরী জয় করলেন মানুষের হৃদয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অসহায় শিশুদের সহায়তায় এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ফুটবলার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ সুখবর জানিয়েছেন হামজা নিজেই। বিনয় ও কৃতজ্ঞতায় ভরা পোস্টের শুরুতেই তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, গাজার শিশুদের জন্য আমরা এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।’

বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পরও কৃতিত্ব একা নিজের বলে দাবি করেননি এই ফুটবলার। বরং পুরো উদ্যোগকে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হামজা বলেন, কেউ সময় দিয়েছেন, কেউ আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন, আবার কেউ পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন।

বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুজুম স্পোর্টসকে। প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিরলস পরিশ্রম করে এই উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংগৃহীত অর্থ কোথায় ব্যয় হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন হামজা। ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করা হবে গাজার অসহায় শিশুদের চিকিৎসার প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে। হামজার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের অনেক শিশুর বেঁচে থাকার জন্য জরুরি চিকিৎসা পেতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, এই তহবিলের প্রতিটি পাউন্ড ব্যয় হবে সংকটাপন্ন শিশুদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে। ধ্বংসস্তূপ, অনিশ্চয়তা আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে থাকা শিশুদের জন্য এই সহায়তা হয়ে উঠতে পারে নতুন করে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা।

তহবিল সংগ্রহের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হলেও হামজা নিজের অবদানকে খুব সামান্য বলেই মনে করছেন। তিনি লেখেন, ‘অল্প সময়ে যা অর্জিত হয়েছে, তাতে আমি বিনয়ী ও কৃতজ্ঞ। এত বিশাল দুর্ভোগের তুলনায় এটি সামান্য অবদান। এখনো অনেক কিছু করার বাকি।’

তবে ছোট ছোট উদ্যোগও যে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, সেই বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেছেন এই ফুটবলার। তাঁর এই উপলব্ধি যেন মনে করিয়ে দেয়, মানবিকতার শক্তি কখনো অর্থের অঙ্কে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিকতাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

পোস্টের শেষাংশে ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য প্রার্থনা করেছেন হামজা। আল্লাহ যেন তাঁর এই প্রচেষ্টা কবুল করেন, ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের দুর্ভোগ দূর করেন, তাঁদের শক্তি ও ধৈর্য দান করেন এবং দেশটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এদিকে মাঠের লড়াইয়েও ফিরতে যাচ্ছেন হামজা। আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। লাল-সবুজের জার্সিতে খেলতে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ৮ বা ৯ নভেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে ক্লাবের ব্যস্ত সূচির কারণে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না।

জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষার মধ্যেই মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন এক পরিচয় তুলে ধরলেন হামজা। ফুটবল মাঠে তাঁর সাফল্য হয়তো গোল, ট্যাকল কিংবা জয় দিয়ে পরিমাপ করা হয়; কিন্তু গাজার শিশুদের জন্য তাঁর এই উদ্যোগের মূল্যায়ন হবে অসহায় মানুষের মুখে বেঁচে থাকার আশার আলো জ্বালানোর মধ্য দিয়ে।