tanaka
প্রচ্ছদইসলাম ও জীবনপ্রিয় নবীজি (সা.)-এর শারীরিক অবয়ব ও অনন্য সৌন্দর্য কেমন ছিল?

প্রিয় নবীজি (সা.)-এর শারীরিক অবয়ব ও অনন্য সৌন্দর্য কেমন ছিল?

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর চরিত্র, আচার-আচরণ ও জীবনাদর্শের পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবয়ব ও সৌন্দর্য সম্পর্কেও সাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন। এসব বর্ণনার মাধ্যমে উম্মত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাহ্যিক গঠন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।

হজরত আলী (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক গঠন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি অতিরিক্ত লম্বা বা খাটো ছিলেন না; বরং তাঁর উচ্চতা ছিল মাঝারি। তাঁর চুল ছিল না খুব বেশি কোঁকড়ানো, আবার একেবারে সোজাও নয়; বরং তাতে হালকা কোঁকড়ানো ভাব ছিল। তাঁর দেহ অতিরিক্ত স্থূল ছিল না এবং মুখমণ্ডলও পুরোপুরি গোলাকার ছিল না, তবে কিছুটা গোলাকৃতির ছিল।

তাঁর গায়ের রং ছিল লালচে আভাযুক্ত সাদা। চোখ ছিল কালো, আর চোখের পাপড়ি ছিল লম্বা ও সরু। তাঁর অস্থিসন্ধিগুলো ছিল সুগঠিত ও মোটা। শরীরের অধিকাংশ অংশ ছিল পশমমুক্ত; তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত সরু একটি লোমের রেখা ছিল। তাঁর দুই হাত ও পায়ের তালু ছিল মাংসল।

হাঁটার ধরনেও ছিল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। তিনি পা দৃঢ়ভাবে তুলে মাটিতে রাখতেন, যেন কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে নামছেন। কারও দিকে তাকানোর সময় পূর্ণ মনোযোগ দিতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে ছিল মোহরে নবুওয়াত।

শারীরিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর চারিত্রিক মহত্ত্বও ছিল অতুলনীয়। হজরত আলী (রা.)-এর বর্ণনায় তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল, সবচেয়ে সত্যবাদী, কোমল স্বভাবের এবং বংশমর্যাদায় শ্রেষ্ঠ।

তাঁর ব্যক্তিত্বে এমন এক গাম্ভীর্য ছিল যে, অপরিচিত কেউ প্রথম দেখায় ভীত হতে পারত। কিন্তু ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করত। তাঁর সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো সৌন্দর্যমণ্ডিত কাউকে তিনি দেখেননি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৈহিক অবয়ব, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের এই বর্ণনা পাওয়া যায় ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর শামায়েলে তিরমিজি গ্রন্থের ৭ নম্বর বর্ণনায়।

লেখক: জামিয়া মিফতাহুল উলুম, নেত্রকোনা