tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে প্রণীত ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ একটি কঠোর ও যুগোপযোগী আইন হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী চক্র প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সদ্য প্রণীত আইনটি আন্তঃদেশীয় এ দুই অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি বলেন, আইনটির সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন আইনে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার নীতি’ও আইনে সংরক্ষিত হয়েছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

অনুষ্ঠানে নতুন আইন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিন্ন ধারণা তৈরি, বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ এবং তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণের পাশাপাশি আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তাই অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রধান বিধান তুলে ধরেন। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।