tanaka

ধর্মের নামে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা চাই না: রাষ্ট্রপতি

দেশে ধর্মের নামে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা চান না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রচ্ছদজাতীয়প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-তুরস্ক

প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-তুরস্ক

বাংলাদেশ ও তুরস্ক প্রতিরক্ষা শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের নেতৃত্বে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দুই মন্ত্রী।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সইয়ের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশে একটি পৃথক তুর্কি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বস্ত্র ও পোশাক, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্মার্ট প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।

এ ছাড়া তুরস্কের সহযোগিতায় ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা বৃত্তি বৃদ্ধি এবং সহজতর ভিসা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে, পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এ বিষয়ে তুরস্কের অব্যাহত মানবিক ও কূটনৈতিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. খলিলুর রহমান।

জবাবে হাকান ফিদান বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাবে।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, গাজা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রশ্নে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিরোধ ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব।

হাকান ফিদান আরও জানান, সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য তুরস্ক সরকার এবং ব্যক্তিগতভাবে হাকান ফিদানকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান হাকান ফিদান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।