প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলা বগুড়া সফর করেছেন তারেক রহমান। দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও তিনি গিয়েছেন পিতার জন্মভিটায়। স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি, উঠান ও চারপাশের পরিবেশ দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কিছু সময় তিনি বাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্মৃতিময় পরিবেশে সময় কাটান।
সোমবার ভোরে গুলশানের বাসভবন থেকে বিশেষ বাসে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পথে পথে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। সকাল সোয়া ১১টায় তিনি বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সেখানে তিনি বগুড়া জেলা এডভোকেটস বার সমিতির নবনির্মিত ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন এবং দেশের সাতটি জেলায় ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করেন তিনি।
পরে দুপুরে তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে যান। সেখানে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন, নশিপুর চৌকিদহ খাল খনন কাজের সূচনা এবং স্থানীয় ৯১১ জন নারীর মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে ছিল ব্যাপক জনসমাগম।
বিকেলে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এক বিশাল জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন ও বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নামফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
“আমরা যা বলি, তা করে দেখাই”: জনসভায় তারেক রহমান
বগুড়ার জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন। তিনি দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই আস্থা রক্ষা করাই তাদের অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করা হবে। এটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে জনগণ আবারও তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে। জনগণ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি ‘ভিশন ২০৩০’ ও ৩১ দফা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কারে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাব দিয়ে আসছে।
যুব কর্মসংস্থান বিষয়ে তিনি জানান, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ, স্থানীয় বিমানবন্দরকে কার্গো সক্ষম করা এবং বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই। আপনাদের সহযোগিতা ও দোয়া নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”
জনসভায় উপস্থিত জনতা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
সফরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



