tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে সম্মত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে সম্মত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “৫৪ বছরের পুরোনো সমস্যা একদিনের বৈঠকে সমাধান সম্ভব নয়—এটা নিশ্চয়ই কেউ আশা করেন না। তবে দীর্ঘদিন পর হওয়া এই বৈঠকে আমরা পরস্পরের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং কিছু বিষয়ে অগ্রগতির ইঙ্গিতও রয়েছে।”

তৌহিদ হোসেন জানান, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উভয়পক্ষ একমত হয়েছে, এসব বিষয়ে সমাধান খুঁজে বের করতেই হবে। “আমরা চেষ্টা করব আলোচনার মাধ্যমে এসব ইস্যু পেছনে ফেলে সম্পর্ককে আরও স্বাভাবিক ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে,” বলেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়ের অবস্থান একই কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে একটি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি—এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো সম্পর্কের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, “একাত্তরের প্রসঙ্গে ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশাররফ দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।” তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একমতের প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি একমত নই। একমত হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী। আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি, তারাও করেছে।”

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা চাই আর্থিক দায়-দায়িত্বের হিসাবনিকাশ স্পষ্ট হোক, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুক ও ক্ষমা চাওুক। সেইসঙ্গে যেসব বাংলাদেশি এখনো পাকিস্তানে আটকে আছে, তাদের ফেরত আনা হোক।”

চীনসহ তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল। চীনের আগ্রহ ও উৎসাহ রয়েছে, পাকিস্তানেরও রয়েছে। তবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা চাই স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক, কিন্তু তৃতীয় পক্ষের কারণে নয়।”

সাবেক সরকারের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে ঝিমিয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই স্বাভাবিক ও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক—যেটা অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গেও আমরা বজায় রাখি। এর বেশি কিছু নয়।”