বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাঁচবার পরিবর্তন করতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. রাজিবুল ইসলাম।
রোববার ট্রাইব্যুনাল-১–এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আরও ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ডা. রাজিবুল ইসলাম তার সাক্ষ্যে জানান, “আমাকে পাঁচবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এক পর্যায়ে পুলিশ একটি প্রতিবেদন নষ্ট করে দিতে বলে। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ প্রতিবেদনে আমি বিস্তারিত উল্লেখ করলেও গুলির বিষয়ে কিছু লিখিনি। শুধু উল্লেখ করি, উপরোক্ত কারণে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “স্বাচিপ সভাপতি চন্দন আমাকে বলেন, আবু সাঈদের লাশ নিয়ে ব্যবসা চলছে, শেখ হাসিনা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। পুলিশ যেমন বলছে, তেমনভাবেই প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছিল।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডা. রাজিবুল আরও বলেন, “রাত ৩টা পর্যন্ত আমি রিপোর্ট লিখছিলাম। আমার স্ত্রী এসে জানতে চায়, কী লিখছি। আমি তখন পরিবার নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। আমাকে বিদেশ সফর ও কক্সবাজারে ঘুরে আসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল, শর্ত ছিল তাদের মনমতো প্রতিবেদন দিতে হবে। কিন্তু আমি সে প্রস্তাবে রাজি হইনি।”
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।



