tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদখেলাপাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ঈদের আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ঈদের আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে তৃতীয় ওয়ানডেতে ১১ রানের জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ২৯১ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান বাংলাদেশের পেসাররা। এরপর একাই লড়াই চালিয়ে দলকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন সালমান আলি আগা। তবে শেষদিকে দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।

এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়েছে বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৫ সালে দুই দল দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন ফেরান সাহিবজাদা ফারহানকে (৬)। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪) সাজঘরে ফেরান তাসকিন।

দলের বিপর্যয়ের মধ্যে হাল ধরার চেষ্টা করেন গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে তারা ইনিংস বড় করতে পারেননি। ঘুরি ৩৯ বলে ২৯ এবং সামাদ ৪৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হন।

একশ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সালমান আলি আগা। তাকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছিলেন অভিষিক্ত ব্যাটার সাদ মাসুদ। তবে ৩৮ রানে তাকে থামিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন মাসুদ। এতে ৭৯ রানের জুটি ভাঙে।

ক্রিজে নেমে দেখেশুনে খেলছিলেন ফাহিম আশরাফ। সালমানের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি তাসকিন আহমেদ। ফাহিমকে বোল্ড করে ফেরান এই পেসার। আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। একাই চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহীন আফ্রিদির বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন সাইফ। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।

দুর্দান্ত শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ২৭ রান।

এদিকে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি করার পর পরের ফিফটি করতে খেলেন ৪৯ বল। সবমিলিয়ে ৯৮ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করার পর বেশি সময় টিকতে পারেননি তামিম। আবরারের কিছুটা খাটো লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে কাভারে শাহীন আফ্রিদির হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১০৭ বলে ১০৭ রানের ঝলমলে ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।

চতুর্থ উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। এই জুটিতে আসে ৬৮ রান, যা দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ রান করেন লিটন। এরপর ক্রিজে নেমে প্রথম বলেই বোল্ড হন রিশাদ হোসেন।

শেষদিকে আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি ৪৪ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন। আফিফ অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। এছাড়া আবরার আহমেদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি একটি করে উইকেট শিকার করেন।