tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়পহেলা অগ্রহায়ণকে নববর্ষ ঘোষণা করল ডাকসু

পহেলা অগ্রহায়ণকে নববর্ষ ঘোষণা করল ডাকসু

পহেলা অগ্রহায়ণকে ‘নববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বৈশাখের প্রথম দিনে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রচলিত আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করলেও ডাকসু এবার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই অগ্রহায়ণকে নববর্ষ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার চারুকলা অনুষদে ‘বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্য’র সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার ঘোষণা দেন ডাকসুর নেতারা। আগামী রোববার ১৬ নভেম্বর, প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে ১ অগ্রহায়ণেই এই আয়োজন করবে সংগঠনটি।

ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে আলী মোহাম্মদ জানান, দীর্ঘ ইতিহাসে পহেলা অগ্রহায়ণই ছিল এ অঞ্চলের আদি নববর্ষ। বাংলা মাসগুলোর বেশিরভাগই নক্ষত্রের নামে হলেও অগ্রহায়ণের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি। তিনি বলেন, কৃষক সমাজের ‘নবান্ন’ বা ‘আমানি’ উৎসব ঐতিহাসিকভাবে পহেলা অগ্রহায়ণেই অনুষ্ঠিত হতো। সম্রাট আকবরের আমলে খাজনা সংগ্রহের সুবিধার্থে বৈশাখকে বছরের প্রথম মাস ধরা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে নববর্ষের উৎসব দীর্ঘদিন অগ্রহায়ণকেই কেন্দ্র করে ছিল।

মুসাদ্দিক আরও বলেন, শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পহেলা বৈশাখ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম ভুলতে বসেছে যে পহেলা অগ্রহায়ণই ছিল বাংলার আদি নববর্ষ। সেই ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করতেই এবার নবান্ন উৎসবকে ‘আদি নববর্ষ’ নামে উদযাপন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি যুবায়ের, স্বাস্থ্য সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি মৃন্ময় মিজান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানমালা

প্রথম পর্ব: রঙতুলিতে নবান্ন
সকাল ১০টা থেকে চারুকলার সাবেক–বর্তমান শিক্ষার্থী ও ১৫ জন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে ‘জুলাই’ ও ‘নবান্ন’ থিমে চিত্রাঙ্কন।

দ্বিতীয় পর্ব: আদি নববর্ষ আনন্দযাত্রা
সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই পর্বে তিনটি মোটিফ প্রদর্শন করা হবে—জুলাই, জেলে জীবন ও কৃষিজীবন। গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপস্থাপনাও থাকবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ পর্ব: সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়
এ দুই পর্বে আবৃত্তি, নাচ, গান, জাদু পরিবেশনা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর গুণী শিল্পীদের সংগীত ও পালাগান অনুষ্ঠিত হবে।