tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকনেপাল জুড়ে আহাজারি, মর্গে জায়গা নেই

নেপাল জুড়ে আহাজারি, মর্গে জায়গা নেই

হাসপাতালের করিডোরে স্বজনদের অপেক্ষা। কারও চোখে অশ্রু, কারও মুখে উৎকণ্ঠা। কেউ খুঁজছেন নিখোঁজ সন্তানকে, কেউ স্বামীকে, কেউ ভাই কিংবা প্রিয়জনকে। অলৌকিকভাবে হলেও তারা ফিরে আসবেন—এই আশাতেই হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন শত শত মানুষ।

নেপালে এখন শোকের মাতম। হিমালয় থেকে নেমে আসা ভোটেকোশি নদীর আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে তছনছ হয়ে গেছে জনপদ। পানির স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও মানুষের জীবন। আর এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ।

মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে মর্গগুলোতে। প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন স্বজনেরা। কেউ ছবি হাতে, কেউ নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয়পত্র নিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রত্যেকের চোখে একই প্রশ্ন—‘আমার মানুষটি কোথায়?’

‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্ত করা এখন নেপাল কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকা থেকে ভেসে আসা মরদেহ নুয়াকোট ছাড়াও ভাটির দিকের চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ও অন্যান্য এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একসময় যে মর্গগুলোতে মরদেহ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা ছিল, সেগুলো এখন প্রায় পূর্ণ।

নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপরাসির মর্গে জায়গা সংকট দেখা দেওয়ায় কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। পোখারার হাসপাতালগুলোর মর্গও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মরদেহে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিতওয়ানের ভরতপুরে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এসব সংখ্যার আড়ালে রয়েছে অসংখ্য পরিবারের কান্না। একটি মরদেহ শনাক্ত হওয়া যেমন কোনো পরিবারের জন্য চূড়ান্ত শোকের মুহূর্ত, তেমনি পরিচয় না মেলায় অনেক পরিবার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ভয়াবহ এই বন্যায় এখনো প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। তাদের স্বজনদের অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইছেন না যে প্রিয় মানুষটি আর নেই। তাই হাসপাতালের দরজায়, উদ্ধারকেন্দ্রের সামনে কিংবা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে এখনো অপেক্ষা করছেন তারা।

হয়তো কোনো এক মুহূর্তে ভিড় ঠেলে পরিচিত মুখটি সামনে এসে দাঁড়াবে—এই অসম্ভব আশাটুকুই এখন তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ভারী হচ্ছে নেপালের বাতাস। একদিকে নিখোঁজ স্বজনকে ফিরে পাওয়ার আকুতি, অন্যদিকে মর্গে জমতে থাকা মরদেহ—সব মিলিয়ে ভয়াবহ বন্যা শুধু জনপদই ভাসিয়ে নেয়নি, ভাসিয়ে নিয়ে গেছে হাজারো পরিবারের স্বপ্ন ও স্বজনের হাসিও।