জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অস্ত্রের মজুদ করছে—এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা ও সম্ভাবনা উভয়ই রয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে—বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে সাধারণত যে পরিস্থিতি দেখা যায়, তার তুলনায় এবার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ভালো। একজন প্রার্থী প্রচারণার সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে কোলাকুলি করছেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্যের চিত্রও কিছু কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে।”
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “যদি কোথাও অস্ত্রের মজুদ থাকে, তাহলে নির্বাচনের দিন সেটি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অনেক এলাকায় ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। এ কারণে যৌথবাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ শুনছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই নির্বাচনে সব দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। আমরা আশা করি, কোনো প্রার্থী এ ধরনের ধৃষ্ট আচরণ করবে না। লঘু অপরাধে জরিমানা ও শোকজ করা হলেও এনসিপি এতে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। অথচ যারা সরাসরি ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এটি একধরনের স্পষ্ট পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, “রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও কোথাও কোথাও রাত ২–৩টা পর্যন্ত মাইক বাজানো হচ্ছে।”
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “একটি দল ইতোমধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেও তা লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি জনগণের সামনে আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার। এনসিপি তখন কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে সনদে স্বাক্ষর করেনি। পরবর্তীতে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। সে কারণেই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি।”
বিএনপি নেতা তারেক রহমানের রয়টার্সে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ যদি শেখ হাসিনা বা তার সন্তানদেরই চাইত, তাহলে গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন হতো না। এত মানুষের জীবন দেওয়ারও কোনো অর্থ থাকত না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



