দেশজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পর পেট্রোলপাম্পগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় নিরাপত্তা এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, সরকার একদিকে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ থাকার কথা জানালেও অন্যদিকে রেশনিংয়ের মাধ্যমে সীমিত সরবরাহ নির্দেশ দেয়ায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছে। এর ফলে দীর্ঘ সারি, বিশৃঙ্খলা এবং হামলার ঘটনাও ঘটছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পাম্প পরিচালনা বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ অস্থিরতার কারণে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে দ্বৈত নীতি—পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলা এবং সীমিত সরবরাহ নির্দেশ—মানুষকে আতঙ্কিত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে’ ধরনের গুজব ছড়ানোর কারণে অনেকেই পাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন এবং ট্যাংক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জে এক পাম্প কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পাম্প মালিকরা অভিযোগ করেছেন, অনেক এলাকায় নিয়মিত তেল সরবরাহ হচ্ছে না। যেখানে ২০২৫ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ কম সরবরাহের নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে আরও কম তেল পাওয়া যাচ্ছে।
রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার অকটেন সরবরাহের সরকারি নির্দেশনারও সমালোচনা করেছেন তারা। কারণ, কাগজপত্র যাচাই করতে সময় লাগায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
পাম্প মালিকরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মনিটরিংয়ের নামে সামাজিকভাবে হেয় করা বন্ধ করার দাবি করেছেন। এছাড়া শহরের বহুতল ভবনের জেনারেটর ও গ্রামের সেচ পাম্পের জন্য আলাদা নির্দেশনা না থাকায় পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
পাম্প মালিকদের সংগঠন সরকারের কাছে আট দফা দাবি জানিয়েছে:
- প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহে কোনো ধরনের বিভাজন না রাখা।
- বড় ও ছোট সব পাম্পে সমানভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে তেল সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা।
- এজেন্সি, পিক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে তেল সরবরাহ চালু করা।
- মনিটরিংয়ের নামে সামাজিকভাবে হেয় করা বন্ধ করা।
- অবৈধ মজুত ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
- তেল ডিপোগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করা।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে পাম্প মালিকরা ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঘটলে দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে।



