tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়নাগরিক সমাজের বিবৃতি: প্রকৌশল ও কারিগরি খাতে সংস্কার ও ন্যায়বিচারের আহ্বান

নাগরিক সমাজের বিবৃতি: প্রকৌশল ও কারিগরি খাতে সংস্কার ও ন্যায়বিচারের আহ্বান

বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ সম্প্রতি প্রকৌশলী, ডিপ্লোমাধারী প্রকৌশলী ও ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের সংকট ও আন্দোলন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তি অগ্রযাত্রায় তাঁদের অবদান অনন্য। কিন্তু নিয়োগ, পদোন্নতি, কোটা ও মর্যাদার প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দ্বন্দ্ব একটি সমন্বিত সংস্কার ছাড়া নিরসন সম্ভব নয়।

আমাদের বিশ্বাস, কেবল কোটা বা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান আসবে না। প্রয়োজন মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সংস্কার কাঠামো। তাই আমরা সরকারের কাছে দ্রুত সব স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি “প্রকৌশল ও কারিগরি সংস্কার কমিশন” গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। কমিশনের কাজ হবে নিয়োগ, পদোন্নতি, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করা। তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সুরক্ষায় দ্রুত নীতি সংস্কার জরুরি।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৮ লাখ প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমাধারী রয়েছেন। তাঁদের ন্যায্য উন্নয়ন ছাড়া শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে। ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া ইতোমধ্যেই মেধাভিত্তিক পরীক্ষা ও মাননির্ভর নিবন্ধনের মাধ্যমে এ সংকট নিরসনের পথে এগিয়েছে। আমাদেরও সে পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি প্রকৌশলীদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগে আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্মান করুন, সংলাপের পথ উন্মুক্ত রাখুন এবং অযথা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকুন। একইসঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, দ্বন্দ্ব নয় বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সংলাপ ও নীতি সংস্কার জরুরি।

নাগরিক সমাজ দৃঢ়ভাবে মনে করে, প্রকৌশল ও কারিগরি খাতের উন্নয়নই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নযাত্রার অন্যতম চাবিকাঠি। তাই দায়িত্বশীল আচরণ ও সমাধানমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ৬১ জন বিশিষ্ট নাগরিক, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—কাউন্টারপয়েন্টের নির্বাহী সম্পাদক জয়তি রহমান, প্রফেসর রুমি রহমান, লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক ড. শফিকুর রহমান, লেখক সুবাইল বিন আলম, ব্যবসায়ী সাদিক মাহবুব এবং যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নি এহতেশামুল হক প্রমুখ।