tanaka

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ...
প্রচ্ছদসারাদেশনদী ভাঙনের কবলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপরহড়মা গ্রাম, দিশেহারা শতাধিক পরিবার

নদী ভাঙনের কবলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপরহড়মা গ্রাম, দিশেহারা শতাধিক পরিবার

রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। এতে নদী পাড়ের মানুষজন নদী ভাঙনের ফলে হারাচ্ছে নিজেদের সর্বস্ব। এই নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দেবিনগর ইউনিয়নের উপরহড়মা গ্রাম। এতে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এই অঞ্চলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিগত কয়েক দিনে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জুলাই থেকে পানি বাড়তে শুরু করে তবে আগস্টে পানি বৃদ্ধি ভয়াবহ হয়। বিগত কয়েকদিনে পানি প্রতি মুহূর্তে বাড়তে থাকে। গত ১৪ আগস্ট পানি বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ উচ্চতা দাঁড়ায় ২১.৭৩ মিটার, যা বিপদসীমার ২২.৫ মিটারের কাছাকাছি। তবে বর্তমানে পানি কমতে শুরু করলেও সেটি ২০.৭৭ মিটারে অবস্থান করছে। পানি কমলেও বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে নদী ভাঙন। গত কয়েকদিনে দেবিনগর ইউনিয়নের আশপাশের প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফসলের জমি ফসলসহ ভেসে গেছে নদীগর্ভে।

সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত স্থায়ী বাঁধের পাশের বাসিন্দারা। কেননা কিছু কিছু এলাকায় স্থায়ী বাঁধ ভেঙে বাড়িঘরও নদীগর্ভে চলে গেছে।

তারা বলছে, আমরা এখানে স্থায়ী বাঁধ পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ছিলাম, কিন্তু এখন এই স্থায়ী বাঁধও নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। আমাদের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে থাকি।

স্থায়ী বাঁধ ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে তারা বলেন, আমরা ধারণা করছি বাঁধ নির্মাণের সময় কারচুপি হয়েছে। তা না হলে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কথা নয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এরকমটা হতে পারে তীব্র স্রোত ও নদীর গভীরতা বৃদ্ধির কারণে। আমরা আপাতত জিও ব্যাগ দিয়ে নদী ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করছি, পরে পানি কমলে আমরা স্থায়ী বাঁধটি পুনরায় মেরামত করে দেবো।

এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একদল কর্মকর্তা নদী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং তাদের সতর্ক থাকার দিকনির্দেশনা দেন।

তবে ওই গ্রামের বাসিন্দারা স্থায়ী সমাধান চান। তারা বলেন, আমরা কষ্ট করে একটা বাড়ি করি, ফসলের জমি চাষ করি, আর প্রতিবছরই আমাদের স্বপ্নগুলো এভাবে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এটা আমরা আর চাই না।