tanaka

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ...
প্রচ্ছদরাজনীতিদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে: গয়েশ্বর

দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিদায় হলেও দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা যাদের মৌলবাদী বলেন, আমি তাদের মৌলবাদী বলি। তারা এখন বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। অর্থাৎ তাদের সঙ্গে থাকলে স্বর্গে যাবেন, না থাকলে দোজখে যাবেন—এমন প্রচার চালাচ্ছে। অথচ নিজেরা বেহেশতে যাবে কিনা, তা তারাই জানে না।”

গয়েশ্বরের মতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজে ‘মব কালচার’ তৈরি করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হলে সাম্প্রদায়িকতা ফ্যাসিবাদের চেয়েও কঠিন হয়ে জনজীবন ধ্বংস করবে।”

ধর্ম ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। ধর্ম ও আধুনিক রাষ্ট্র আইনের মধ্যে মৌলিক কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই, কারণ উভয়ই অন্যায় প্রতিরোধে শাস্তির বিধান রাখে।


সরকার ও প্রশাসন প্রসঙ্গে

গয়েশ্বর অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় প্রশাসন দলীয়করণ করা হলেও বর্তমান সরকার কার্যত প্রশাসনের ওপরই নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “এখন এত জামাত, এত বিএনপি সচিবালয়ে থাকলে হাসিনার সময় এরা থাকল কীভাবে? তখন তো পোস্টমর্টাম করে বের করে দিত।”

তিনি আরও দাবি করেন, এখন সরকারের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়, কেবল শেখ হাসিনা রেখে যাওয়া প্রশাসনই সব পরিচালনা করছে।


গণতন্ত্র ও মিডিয়া স্বাধীনতা

গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ যদি ভুলবশত কাউকে ভোট দেয়, পরের ভোটে তা সংশোধনের সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু এখন মিডিয়ার স্বাধীনতা অরাজকতায় রূপ নিয়েছে। “যা খুশি তাই বলার প্রবণতা সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, যা শিশু-কিশোরদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে,” মন্তব্য করেন তিনি।


পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে

পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, “আমি বুঝি না এই পিআর কোথা থেকে আসছে। শুনি নেপালে আছে। এভাবে হলে সকালে একজন প্রধানমন্ত্রী, বিকেলে আরেকজন, রাতে আরেকজন—এমন অবস্থা হবে।”


রাজনীতি ও এমপি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা

গয়েশ্বর আত্মসমালোচনা করে বলেন, “আমরা সবাই এমপি হতে চাই, এজন্য নিজেদের ভেতরে কাঁদাছুড়াছুড়ি করি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ছড়িয়ে দিই। ফলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়।”

তিনি যোগ করেন, “যদি রাজনীতি কেবল ক্ষমতা ও সুবিধা পাওয়ার জন্য হয়, তবে জনগণ আমাদের দিকে বেশিদিন তাকিয়ে থাকবে না। আমাদের একস্বরেই বলতে হবে—আমরা শুধু গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার চাই।”


আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন প্রমুখ। সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আহমেদ হুসেইন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব শহিদুল হক দেওয়ান।