tanaka

চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম-এর সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২৯...
প্রচ্ছদজাতীয়দুর্নীতি দমনে প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন চান নাগরিকরা

দুর্নীতি দমনে প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন চান নাগরিকরা

দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন নাগরিকরা। গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি দেশের শীর্ষ পাঁচটি উদ্বেগের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও যমুনা টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘দুর্নীতি কীভাবে কমবে’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে সংস্থাটির সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফলে এসব তথ্য উঠে আসে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) যমুনা টেলিভিশনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে জানানো হয়, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন আগামী সরকারের জন্য চতুর্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। একই জরিপে দেখা যায়, একজন সংসদ সদস্যের কাছে ৩০ শতাংশ নাগরিকের প্রধান প্রত্যাশা জনস্বার্থে কাজ করা এবং ২৪ শতাংশ নাগরিক সততাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করেন।

জরিপে আরও উঠে আসে, অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশ বর্তমানে ভুল পথে এগোচ্ছে, যার শীর্ষ পাঁচটি কারণের মধ্যেও দুর্নীতি অন্যতম। পাশাপাশি, আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন। জরিপ অনুযায়ী, ৩৩ শতাংশ ভোটার এখনো ঠিক করেননি কাকে ভোট দেবেন, যার মধ্যে ৪৩ শতাংশ নারী।

এই প্রেক্ষাপটে সংলাপে অংশ নিয়ে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সিসিল বলেন, “বর্তমান সময়টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভোটাররা এখন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “পাসপোর্ট পেতে ৭৪ শতাংশ মানুষকে ঘুষ দিতে হয়। বিচার বিভাগ ও ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি কমানোর আশ্বাস দিলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়।”

দেশের আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনিক কাঠামো দুর্নীতিবান্ধব হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, “ডিজিটালাইজেশনের কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না। ক্ষমতা মানেই টাকা—এই সংস্কৃতি দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর যুগ্ম মহাসচিব শামা ওবায়েদ জানান, “বিএনপির ইশতেহারে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। বিচার বিভাগে দুর্নীতি রোধে আলাদা কমিশন গঠন, দুদকের সংস্কার, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন এবং টাকা পাচার বন্ধে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় নেতা শম্পা বসু বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা এবং রাষ্ট্রকাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক তাহসিন রিয়াজ বলেন, দলীয় আনুগত্যের আড়ালে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি জানান, তাদের দলে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আল মামুন রাসেল বলেন, “দেশের প্রায় সব খাতেই দুর্নীতি বিস্তৃত। জবাবদিহিতা ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। অনিয়মে জড়িতদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হবে না।”

সংলাপ শেষে বক্তারা একমত হন যে, দুর্নীতি দমন কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজন বাস্তব সংস্কার, কার্যকর জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার দৃশ্যমান প্রতিফলন।

এফসিডিওর আর্থিক সহায়তায় ‘বি-স্পেস’ প্রকল্পের আওতায় এই নাগরিক সংলাপটি আয়োজন করা হয়।