tanaka

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ...
প্রচ্ছদরাজনীতিদলীয় পদ হারাতে পারেন বিএনপির মন্ত্রী-এমপিরা

দলীয় পদ হারাতে পারেন বিএনপির মন্ত্রী-এমপিরা

বাবার পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান

দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরে সরকার ও দলকে আলাদা কাঠামোয় পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, একই ব্যক্তি সরকার ও দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ কারণে ব্যতিক্রম ছাড়া মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জেলা, মহানগর কিংবা উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। এর মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে বহু আলোচিত ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি।

দলীয় সূত্র বলছে, আসন্ন সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে বিএনপি জেলা-মহানগর ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথম ধাপে মন্ত্রী ও এমপিদের সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সাংগঠনিক পদেও পরিবর্তন আনা হবে। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় দলীয় দায়িত্ব ছেড়ে সরকার পরিচালনায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, মন্ত্রী ও এমপিরা প্রশাসনিক কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিলে সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে নতুন নেতৃত্বের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে দলেও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দল ও সরকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পক্ষে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে দলের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়েছেন। এছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, সরকার ও দলের কাজের ধরন ভিন্ন। একই ব্যক্তি দুই জায়গায় সমানভাবে সময় দিতে না পারায় কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। তাই অনেকে এখন একটি দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার সাংগঠনিক মডেল অনুসরণ করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর সরকার পরিচালনার জন্য দল ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব থাকা জরুরি। মন্ত্রীরা প্রশাসনিক কাজে মনোযোগী থাকলে এবং অন্য নেতারা দল গোছানোর দায়িত্ব নিলে ক্ষমতার অপব্যবহার কমবে এবং জবাবদিহিতা বাড়বে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, সরকার ও দল একাকার হয়ে যাওয়া গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। তার মতে, সরকার সরকারের কাজ করবে, দল দলের কাজ করবে—এটাই হওয়া উচিত। অতিরিক্ত দলীয়করণ ভবিষ্যতে বিএনপির জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ভাষ্য, জিয়াউর রহমান দল ও সরকারকে আলাদা রাখার নীতি অনুসরণ করতেন। তার সময়ে মন্ত্রী বা এমপিরা সাধারণত দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে থাকতেন না। বিএনপির প্রথম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকেও দল সংগঠিত করার জন্য মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি দেশজুড়ে সাংগঠনিক সফর করেন।

নেতারা আরও জানান, সেই সময়ে দলের নেতাকর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। এমনকি মন্ত্রী-এমপিদেরও বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হতো। এখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একই ধরনের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীরা তাদের ৮০ দিনের কাজের হিসাব নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন। অনেকের মতে, এটি জিয়াউর রহমানের জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন।

এদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ছয়জন নেতা বর্তমানে এমপি বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নরুল ইসলাম নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী। এসব ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রস্তুতিও চলছে।

জেলা ও মহানগর পর্যায়েও অনেক এমপি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবীব দুলু, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শাহজাহান চৌধুরী, মনোয়ার হোসেন খান, খায়রুল কবির খোকনসহ আরও অনেকে। দলীয় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাদের পদেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, অতীতে অনেক নেতা একাধিক পদে থাকলেও এখন ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তার ভাষায়, এটি কাউকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; বরং দল ও সরকারকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও বলেন, জিয়াউর রহমান দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করেছিলেন। বর্তমান নেতৃত্বও সেই ধারা অনুসরণ করে সরকার ও দলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে চায়।