tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদরাজনীতিতারেক রহমানের সফর : সিলেটি জামাইকে বরণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি

তারেক রহমানের সফর : সিলেটি জামাইকে বরণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি

দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর আগামী ২২ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়ি সিলেটে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পরদিনই আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন তিনি।

তারেক রহমানের সিলেট আগমনের খবরে সিলেটসহ পুরো বিভাগজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ‘সিলেটি জামাই’কে বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী।

এদিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও যানজট নিরসনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল পরিবেশেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

বিএনপি সূত্র জানায়, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এ জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগর, জেলা ও বিভাগের বিভিন্ন ইউনিট ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মাঠ সাজানো, মঞ্চ নির্মাণ, পোস্টার-ব্যানার ও প্রচারণা কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, সিলেট শুধু একটি বিভাগীয় শহর নয়; রাজনৈতিক আন্দোলন ও ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এখান থেকেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করে জনগণের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেট হওয়ায় এই সফরের রয়েছে আলাদা আবেগ ও রাজনৈতিক তাৎপর্য।

বিএনপি সূত্র আরও জানায়, ২২ জানুয়ারি সকালে সিলেটে পৌঁছে তারেক রহমান প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন। একই দিনে হবিগঞ্জেও একটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা দলের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এতে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মকসুদ আহমদ কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচার শুরু হচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসভা থেকে সারা দেশে একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান সিলেট থেকে প্রচার শুরু করায় আমরা গর্বিত। যুবদলের হাজারো নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানকে বরণ করতে সিলেটবাসীর মধ্যে বাড়তি আনন্দ দেখা যাচ্ছে। জনসভা সফল করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যেমন সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন, এবারও একই ধারাবাহিকতায় আমাদের নেতা এখান থেকেই কার্যক্রম শুরু করবেন। চূড়ান্ত সূচি এখনও জানা না গেলেও ২২ জানুয়ারি তার সিলেট সফর নিশ্চিত।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের সফর ও জনসভা সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভাকে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, প্রায় ২২ বছর পর তারেক রহমান সিলেটে আসছেন। নির্বাচনী প্রচারের ধারাবাহিকতায় সিলেট থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হবে। যেহেতু এখানে তার শ্বশুরবাড়ি, তাই সফরটির আবেগ ও গুরুত্ব দুটোই বেশি। অনুষ্ঠান সফল করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।