tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদজাতীয়জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: ভোটের বাকি ৩০ দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: ভোটের বাকি ৩০ দিন

ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের আর মাত্র ৩০ দিন বাকি। এরই মধ্যে সারা দেশে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনের হাওয়া। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়নি, তবুও ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ঘরে ঘরে ছুটছেন প্রার্থীরা। নানা সভা, সমাবেশ ও কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরছেন নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি। ভোটের মাঠে জয়ের লক্ষ্যে সাজাচ্ছেন নানামুখী কৌশল।

প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো পর্যায়ক্রমে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবে। দলীয় প্রধানসহ শীর্ষ নেতারা ছুটবেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন দলের রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি ও অঙ্গীকার।

এবারের জাতীয় নির্বাচনটি নানা কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর দীর্ঘদিন পর সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে দলটির ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী কয়েকটি দলও নির্বাচনের বাইরে রয়েছে। তবে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে দুটি বড় জোটে বিভক্ত হয়েছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর জোট একসঙ্গে নির্বাচন করছে এবং এই জোটের আসন বণ্টনও চূড়ান্ত হয়েছে। সমমনা দলগুলোর জন্য বিএনপি ১৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এসব আসনে সংশ্লিষ্ট দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক কিংবা বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত আরেকটি জোট নির্বাচনে লড়াই করছে। ধারণা করা হচ্ছে, মূলত এই দুই জোটের প্রার্থীদের মধ্যেই নির্বাচন ঘিরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের শাসনামলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে রয়েছে। তবে দলটি বর্তমানে নানামুখী সংকটে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক নেতা নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হতে পারছেন না। ফলে ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নেবে কিনা—এ নিয়েও নানা মহলে সন্দেহ রয়েছে। দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা আলাদা হয়ে নতুন জাতীয় পার্টি গঠন করেছেন এবং তাদের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক জোটও আত্মপ্রকাশ করেছে। এই জোটের কেউ কেউ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ বাইরে রয়েছেন।

বড় দুই জোটের বাইরে যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তাদের উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক অবস্থান নেই। এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা কয়েকটি দল এখনও বড় জোটে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। বিনাভোট, রাতের ভোট ও ডামি ভোটের অভিযোগে টানা তিনটি নির্বাচন নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ছিল। সেই সময় সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। নতুন প্রজন্মের অনেক ভোটার দীর্ঘদিন ধরে জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এবার প্রবাসী ভোটারদের জন্যও ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সাধারণ মানুষ। এবারের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে এই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানাবেন। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সমমনা দলগুলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপি ইতোমধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটেও দলটির সমর্থন রয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে শুরুতে নানা সংশয় থাকলেও তা অনেকটাই কেটে গেছে। নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তফসিল অনুযায়ী বর্তমানে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শুনানি চলছে। আগামী ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জন। ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৩ হাজার ৪০৬ জন, আর দাখিল করেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনের তিনটি মনোনয়নপত্র যাচাই ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রেখেছে কমিশন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ৪৭৮ জন। আর মাত্র ৩০ দিন পরই নির্ধারিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ।