বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোসহ দু’পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার বড় আকারের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। তবে এবার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে—এই ধারণা থেকেই তারা পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি ইইউর সমর্থনই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, ইইউ সেই সরকারের সঙ্গে অধিকতর সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে—এই বিষয়গুলো নিয়েই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
নজরুল ইসলাম খান জানান, আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন কেমন হবে, সেখানে বিএনপির ভূমিকা কী থাকবে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে দলের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল। জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিটি মূলত বিএনপিরই। নির্ধারিত তারিখেই যেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়—এই প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন যে, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তারা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট দিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। বিএনপি এ নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবদানের জন্য তারেক রহমান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে ইইউ বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে আরও বেশি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সাক্ষাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।



