দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আরিফ মোহাম্মদ খান ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হচ্ছেন। বর্তমানে বিহারের গভর্নরের দায়িত্বে থাকা এই রাজনীতিককে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে উপমহাদেশের কূটনীতিতে একটি ‘বিরল ঘটনা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরিফ মোহাম্মদ খান শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি ভারতের সামাজিক ও আইনি সংস্কার আন্দোলনের পরিচিত মুখ। ৮০-এর দশকে রাজীব গান্ধী সরকারের তরুণ ও প্রভাবশালী মন্ত্রীদের একজন ছিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আদর্শিক প্রশ্নে আপোশ না করার কারণে তিনি খ্যাত।
১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক ‘শাহ বানু’ মামলার সময় তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মুসলিম নারীদের খোরপোশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর, রাজীব গান্ধী সরকার যখন আদালতের রায় উল্টে দিতে নতুন বিল আনে, তখন মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। অনেকের মতে, তার সেই পদত্যাগই রাজীব গান্ধীর পতনের সূচনামাত্রা হয়েছিল।
সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকরাই হাইকমিশনার বা রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বিহারের গভর্নর এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো বিশ্বব্যাপী বিরল ঘটনা। ভারতের ইতিহাসে বাংলাদেশে এত বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধি পাঠানোর নজির নেই।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিযুক্তির পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
- বিশেষ পদমর্যাদা: তাকে সম্ভবত কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।
- কূটনৈতিক গুরুত্ব: ভারতের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই নিয়োগে প্রতিফলিত হচ্ছে।
- অভিজ্ঞতা: জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা সম্পন্ন একজন নেতাকে পাঠিয়ে ঢাকা-নয়ডা সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



