ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সারাদেশে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতি সপ্তাহের শনিবার নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনায় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা। এ লক্ষ্যেই আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সরকার সারাদেশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদের সদস্যসহ সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজ নিজ এলাকায়—বাড়ির আঙিনা, আশপাশের খোলা জায়গা, ড্রেন, জলাবদ্ধ স্থান ও সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল—পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন।
তিনি বলেন, “আপনার-আমার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমাতে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলে ভবিষ্যতে এসব রোগ থেকে জনগণকে অনেকাংশে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।”
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ইতোমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে। অথচ সামান্য সচেতনতা এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন, এডিস প্রজাতির মশার কামড় থেকেই মূলত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। তাই বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়া, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম, পানির ট্যাংক, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর—বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ রোগ আর নির্দিষ্ট মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। বছরের যেকোনো সময়ই ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখতে পারলেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।”



