জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় টোকিওর কামিনাকায়াতোর তাকিনোগাওয়া হলে ইসলামিক মিশন জাপানের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় রূপ নেয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দিতে হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। ’৪৭, ’৭১ ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনে এ দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদ ও রাজপথে আপসহীন ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ইতিহাসে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। একইসঙ্গে সে সময়ের সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থীদের প্রতি আস্থা রাখায় প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই আস্থা তাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, জাপানের আইন-কানুন মেনে চলা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।
সাইফুল আলম খান মিলন এমপি প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলন দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে, যা এগিয়ে নিতে দেশ-বিদেশের সব বাংলাদেশির ঐক্য প্রয়োজন।
ইসলামিক মিশন জাপানের সভাপতি হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে প্রবাসী শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় বাংলা, আরবি ও জাপানি ভাষায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি জাপানে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।



