টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের কীর্তি সবসময়ই বিশেষ মর্যাদার। দীর্ঘ পরিসরের এই ফরম্যাটে টানা তিন বলে তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরানো যে কোনো বোলারের জন্যই বড় অর্জন। বাংলাদেশের ক্রিকেটেও এমন বিরল কীর্তি গড়েছেন মাত্র তিনজন—আলোক কাপালি, সোহাগ গাজী ও হাসান মাহমুদ।
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে ম্যাচের তৃতীয় দিনে টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট হ্যাটট্রিকম্যান হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান পেসার হাসান মাহমুদ। একই সঙ্গে তিনিই বাংলাদেশের প্রথম পেসার, যিনি টেস্টে হ্যাটট্রিক করার স্বাদ পেলেন।
হাসানের আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক হয়েছিলেন লেগ স্পিনার আলোক কাপালি। ২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত টেস্টে টানা তিন বলে শাব্বির আহমেদ, দানিশ কানেরিয়া ও উমর গুলকে আউট করেন তিনি। সেই কীর্তির মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিকের ইতিহাস তৈরি হয়।
এর প্রায় এক দশক পর ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন অফ স্পিনার সোহাগ গাজী। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কোরি অ্যান্ডারসন, বিজে ওয়াটলিং ও ডগ ব্রেসওয়েলকে পরপর তিন বলে সাজঘরে ফেরান তিনি।
সোহাগের সেই ম্যাচটি আরও স্মরণীয় হয়ে আছে তার ব্যাটিংয়ের কারণেও। একই টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই অফ স্পিনার। ফলে একই ম্যাচে ব্যাট হাতে শতক ও বল হাতে হ্যাটট্রিক—দুটি অসাধারণ অর্জন একসঙ্গে করেছিলেন তিনি।
সোহাগ গাজীর পর দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় হ্যাটট্রিকের দেখা মিলল হাসান মাহমুদের হাত ধরে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন বলে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে ফিরিয়ে এই বিরল কীর্তি গড়েন তিনি।
হাসানের হ্যাটট্রিক তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও নতুন একটি মাইলফলক। আলোক কাপালি ও সোহাগ গাজীর পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো একজন পেসারের নাম।



