tanaka
প্রচ্ছদরাজধানীটিকাকেন্দ্রে হামলায় জড়িতদের বিরোদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক

টিকাকেন্দ্রে হামলায় জড়িতদের বিরোদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদানকারী প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, রাতের আঁধারে দখলদারিত্ব বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা সরকার মেনে নেবে না।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কড়াইলে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘রাড্ডা দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় প্রসূতি মা ও শিশুদের টিকাদানসহ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। পরশু গভীর রাতে সেখানে কিছু দুষ্কৃতকারী ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানতে পারি। খবর পেয়ে গতকাল আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।’

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি নিজে পুলিশের ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি। ডিসি জানিয়েছেন, মামলা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেই হোক না কেন, রাতের আঁধারে এ ধরনের দখলদারিত্বের কর্মকাণ্ড এই সরকার চায় না। আমরাও চাই না। তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’

জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশা প্রকাশ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমি আশা করছি, এই দুষ্কৃতকারী যারাই হোক, তারা খুব দ্রুত গ্রেপ্তার হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জায়গাটি নিয়ে রাড্ডা ও কোনো সমিতির মধ্যে আইনি বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথাও বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো সম্পত্তির মালিকানা বা দখল নিয়ে বিরোধ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলার সময় অফিসের বিভিন্ন সামগ্রী ও টিকাদান কর্মসূচির সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

তবে মামলায় নাম আসা বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িতই নই। আমি জানিই না সেখানে কী হয়েছে। আমার নাম আবার কে দিল মামলায়?’

তাঁবু টানিয়ে রাড্ডায় টিকাদান কার্যক্রম

হামলা ও ভাঙচুরের পরও রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে তারা তাঁবু টানিয়ে সেখানে হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু করেছে। তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলও রাড্ডায় টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি এনজিও পরিচালিত একটি মাতৃসেবা কেন্দ্র ছিল। এর মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, রাতের আঁধারে কেউ এভাবে সেটি ভেঙে ফেলবে। এটি অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। মালিকানা নিয়ে যে বিরোধ রয়েছে, তা আদালতে নির্ধারিত হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর আগ পর্যন্ত যাতে আমাদের টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করবে। ভবিষ্যতে এ নিয়ে যেন কেউ বাড়াবাড়ি করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’