tanaka
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিটাকা তুলতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ৭৪ হাজার আবেদন

টাকা তুলতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ৭৪ হাজার আবেদন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে আমানত উত্তোলনের জন্য ৭৪ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকেরা মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়েছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ছিল আমানত উত্তোলনের আবেদনের শেষ দিন।

রোববার রাতে কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার।

তিনি বলেন, ব্যাংকটি গঠনের পর আমানত উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের মধ্যে শুরুতে যে আগ্রহ দেখা গিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমেছে। এটিকে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবেও দেখছেন তিনি। আবেদনের শেষ দিনে এসে আমানত ফেরত চাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, গ্রাহকদের করা আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে আমানত ফেরত দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে সোমবার থেকেই গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রাহকেরা তাদের হিসাবে থাকা মূল আমানতের টাকা এককালীন উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মূল আমানত তুলে নিলে ওই অর্থের বিপরীতে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

আমানত ফেরত পেতে গ্রাহকদের নিজ নিজ শাখা বা উপশাখায় আবেদন করতে হচ্ছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় অর্থ সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে। এরপর ওই শাখা থেকেই গ্রাহকেরা তাদের আমানতের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

ব্যাংক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনের প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬০০ গ্রাহক ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা, তৃতীয় দিনে ২১ হাজার গ্রাহক ৯২৩ কোটি টাকা এবং চতুর্থ দিনে ১৫ হাজার ৪৭৬ জন গ্রাহক ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও শেষ দিকে এসে নতুন আবেদনের গতি কমে যায়।

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠন

সংকটাপন্ন পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন পায় ব্যাংকটি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ও মূলধনের বিবেচনায় দেশের বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।