tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশঝালমুড়ি বিক্রি করা দুই শিশুর পাশে ইউএনও, ফিরল স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন

ঝালমুড়ি বিক্রি করা দুই শিশুর পাশে ইউএনও, ফিরল স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন

  1. যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেই বয়সেই জীবিকার তাগিদে হাটে-বাজারে পান ও ঝালমুড়ি বিক্রি করত দুই ভাই। বাবার কোনো খোঁজ নেই, মা চলে গেছেন অন্য সংসারে। বৃদ্ধ দাদার সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে দুই নাতির পড়াশোনা ছিল প্রায় অসম্ভব।

    তবে সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই নতুন আশার আলো দেখেছে পটুয়াখালীর গলাচিপার দুই শিশু রহমাতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহ। তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক

    উত্তর চরবিশ্বাসের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই দুই ভাইয়ের বাবা আলিউল মাতুব্বর দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। অনেক খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি। পরে তাদের মা শিরিনা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র সংসার শুরু করেন। ফলে দুই ভাইয়ের আশ্রয় হয় বৃদ্ধ দাদা মনির মাতুব্বরের কাছে।

    অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়ার বয়সেই জীবিকার সন্ধানে নামতে হয় তাদের। বিভিন্ন হাট-বাজার ও খেলার মাঠে পান ও ঝালমুড়ি বিক্রি করে যা আয় হতো, তা দিয়েই চলত তাদের জীবন।

    স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছা অবশ্য কখনো হারায়নি দুই ভাইয়ের। স্কুলপোশাক পরা শিশুদের দেখলে তাদেরও বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার স্বপ্ন জাগত। কিন্তু দারিদ্র্য সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    সম্প্রতি বিষয়টি গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের নজরে আসে। তিনি দুই শিশুকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পড়াশোনার আগ্রহের কথা জানতে পারেন। এরপর তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেন।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে রহমাতউল্লাহ ও আব্দুল্লাহকে মধ্য চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের স্কুলড্রেসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হালিম জানান, বুধবার দুই ভাইকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় এবং বৃহস্পতিবার তাদের প্রথম ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, দুই শিশুর কথা জানতে পেরে তাদের অফিসে এনে কথা বলেন। পরে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের স্কুলে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন তাদের সার্বিক বিষয়ে নজর রাখবে বলেও জানান তিনি।

    যে হাতে এতদিন পান-ঝালমুড়ির পসরা ছিল, সেই হাতে এখন বই-খাতা।
    দুই ভাইয়ের এই পরিবর্তন শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়—এটি দেখিয়ে দেয়, একটু সহযোগিতা ও সুযোগ পেলে একটি শিশুর থেমে যাওয়া স্বপ্নও আবার নতুন করে শুরু হতে পারে।