tanaka
প্রচ্ছদমতামতজ্বালনির দাম বৃদ্ধিতে বাজারে তেমন প্রভাবই পড়েনি

জ্বালনির দাম বৃদ্ধিতে বাজারে তেমন প্রভাবই পড়েনি

মনে করেছিলাম তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধিতে সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়বে। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখলাম, তার তেমন কোনো প্রভাবই পড়েনি। আজকে সন্ধ্যার পরে বাজারে গেলাম তরিতরকারি কেনার জন্য। মোটামুটি সব ধরনের তরিতরকারিই আছে, কিন্তু একটা তরকারিরও চেহারা ভালো না। তবে দুইটা সবজি বিপুল পরিমাণ দেখলাম,প্রত্যেকটা ভ্যানে উপচে পড়ছে।

গুলিস্তানে যেমন গানের তালে তালে গার্মেন্টসের রিজেক্ট শার্ট বিক্রি করে, “অফার, অফার, অফার” চিল্লায় চিল্লায় বলে, একটা কিনলে ৫০, দুইটা কিনলে ১০০! ঠিক একইভাবে বাজারে ভ্যানগাড়ির মধ্যে গুলিস্তানের মতো ডেকে ডেকে বিক্রি করছে পেঁপে কেজি ১০ টাকা। আরও দুই ভ্যানগাড়িতে দেখলাম ছোট ছোট বাচ্চারা চিল্লাচিল্লি করে বলতেছে, “অফার, অফার, অফার! একটা লাউ ২০ টাকা, দুইটা কিনলে ৩০ টাকা!” ভালোই লাগল।

এই সবকিছুই ম্লান হয়ে যাচ্ছে, তারেক রহমান বুঝতে পারছে না। উনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে যতটুক সুনাম অর্জন করেছেন, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: খলিলুর রহমান, যেভাবে ভারতকে বাঁশ দিয়ে, দেশের মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছেন সব হারিয়ে যাচ্ছে, এনসিপি, জামায়াত এবং লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ সালমান মুক্তাদির ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে যে সংঘবদ্ধ প্রচারণা চালানো হয়েছে, মানুষকে যেভাবে বিষিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল ঢাকাবাসীকে বোঝানো “এই দেখো বিএনপি কী জিনিস।”

ইতোমধ্যে ফেসবুকে হাজার হাজার শিবির ও ওসমান হাদী টাইপের পেজে সালমানের ছবি দিয়ে ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে “জামায়াত ও এনসিপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ইনসাফ কায়েম হবে না!” এটা মানুষকে বুঝাতে চাচ্ছে।

কিন্তু বিএনপি যে ভালো, সেটাও আমি বলছি না। আপনারা সবাই দেখছেন, পুলিশের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি থানায় বসে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, এ কেমন প্রশাসন? আজকেই আপনারা দেখেছেন প্রিজম ভ্যান থেকে ২৭ মামলার আসামি মোহাম্মদপুরের ‘পিচ্চি রাজা’ পেশাব করার বাহানায় হাতকরা সহ পালিয়ে গেছে।

মিরপুর-১ এ রাড্ডা হাসপাতালের জায়গা দখল করতে গিয়ে বিএনপির স্থানীয় লোকজনের তাণ্ডব সারাদেশের মানুষই দেখছে। যদিও মন্ত্রী আমিনুল হক হাসপাতাল পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। পুলিশ নয় জনকে গ্রেফতার করেছে তাল উদ্ধার করেছে, তারপরেও বিএনপি’র যতটুক সুনাম নষ্ট হয়েছে সেটা রিকভার করতে পারবেনা।

গত ৩০ বছরে অফিস, আদালত ও ব্যাংকগুলোতে এত ‘ছেঁচড়া’ তদবিরবাজ আর কখনো আমি দেখিনি, যা এই তারেক রহমানের আমলে দেখছি। সব ছোটলোকের পোলাপান। এমন সব তদবির নিয়ে আসছে, আলিফ লায়লার গল্পের মতো! যেকোনো মূল্যে এই তদবির কালচার বন্ধ করতে হবে। না হলে দেশ ও দল দুই-ই ধ্বংস হয়ে যাবে।

বিএনপির সামনে এখনো সময় আছে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং ভালো কিছু করার। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে এই অযোগ্য প্রশাসন ও তদবিরবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোর, এমনকি নির্মম ব্যবস্থা না নিলে কোনো কিছুই ঠিক হবে না।

ফজলে নিজামী খান (প্রবাল), ব্যাংকার
মিরপুর ঢাকা।